সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:
অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে আজ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনে কিছু স্বল্প প্রভাব বিস্তারকারী কিছু অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা মার্কেটে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার সম্ভাবনা কম। তবে, আজ যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপির চূড়ান্ত অনুমান, ডিউরেবল গুডস বা টেকসই পণ্যের অর্ডার এবং জবলেস ক্লেইমস বা বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা সংক্রান্ত দাবির প্রতিবেদন।
বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির প্রতি ট্রেডারদের বিশেষ মনোযোগ দেয়ার সম্ভাবনা কম। জিডিপি প্রতিবেদনটির ফলাফল পূর্ববর্তী অনুমানের কাছাকাছি থাকতে পারে, যা সম্ভবত মার্কেটে বড় ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না। আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হবে টেকসই পণ্যের অর্ডার, যা ইতিবাচক ফলাফল প্রদান করতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:
বৃহস্পতিবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তার—বার, বার্কিন এবং বোম্যানের বক্তৃতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে, আমরা ইতোমধ্যেই একাধিকবার উল্লেখ করেছি যে, যুক্তরাজ্য, ইউরোজোন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির বিষয়ে ট্রেডাররা তুলনামূলকভাবে সব কিছুই জানে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এখনো নজরদারির মধ্যে রয়েছে, কারণ যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের ফলাফল ২০২৫ সালে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিগত অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কর্মকর্তারা এখনো এই প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি, তাই তাদের নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ সম্ভবত ২০২৫ সালে পূর্ব পরিকল্পিত দুইবারের চেয়েও কম সুদের হার হ্রাস করতে পারে।
উপসংহার:
আজকের ট্রেডিংয়ে, EUR/USD এবং GBP/USD উভয় পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মূল্য সাম্প্রতিক স্থিতিশীল রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আমরা মনে করি যে গত সপ্তাহেই ইউরো এবং পাউন্ডের দরপতন শুরু হওয়া উচিত ছিল। তবে, আজকের মুভমেন্ট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।
যদিও উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্য এখনো ঊর্ধ্বমুখী হতে চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, মার্কেটের ট্রেডাররা বর্তমানে মূলত ক্রয়ের প্রবণতা বজায় রাখছে, যদিও ক্রয়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যালের শক্তি: সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (বাউন্স বা লেভেলের ব্রেকথ্রু)। এটি গঠন করতে যত কম সময় লাগবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।
2) ভুল সিগন্যাল: যদি ভুল সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন খোলা হয় (যা টেক প্রফিট শুরু করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেট: ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ফলস সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যালের গঠন নাও হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়া উচিত।
4) ট্রেডিং টাইমফ্রেম: ইউরোপীয় সেশনের শুরু এবং মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেড ওপেন করা উচিত। এর বাইরে সমস্ত ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) MACD সূচকের সিগন্যাল: প্রতি ঘন্টার চার্টে, শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য ভোলাট্যালিটি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রবণতার মধ্যেই MACD থেকে প্রাপ্ত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা একটি ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।
6) কাছাকাছি লেভেল: যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
7) স্টপ লস: মূল্য 15 পিপস উদ্দেশ্যমূলক দিকে যাওয়ার পর, ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করা উচিত।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD (14,22,3) সূচক, হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে এবং এটি সিগন্যালের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা এবং প্রতিবেদন (সর্বদা নিউজ ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকে) যেকোন কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গতিশীলতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, এগুলো প্রকাশের সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ট্রেডিং করতে হবে। প্রচলিত প্রবণতার বিপরীতে আকস্মিকভাবে মূল্যের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকতে মার্কেটে থেকে বের হয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ট্রেড থেকে লাভ হবে না। সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।